Monthly Archives: June 2014
দুই দশকের নিভৃতচারী এক পৃষ্ঠপোষকের বিদায়

আজাদুর রহমান চন্দন

ছাত্র আন্দোলন, ক্ষেতমজুর আন্দোলন ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোভাগে থেকে এক পর্যায়ে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশক নেপথ্যে নিভৃতেই ছিলেন। তবুও ছিলেন সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেই। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন অভিভাবকের মতো। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা, ইউকসুর সাবেক ভিপি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুক। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার দুপুরে মৃত্যু হয়েছে তার।
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খন্দকার ফারুকের বয়স পঞ্চাশের কোঠা পেরোয়নি। এমন অকালে তার চলে যাওয়া মানা যায় না।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন খন্দকার ফারুক। তখন কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছিলেন তিনি। মাঝে-মধ্যেই কাশির সঙ্গে রক্ত বের হত। মাসখানেক আগেও একবার ব্যাংককে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। শুক্রবার কাশির সঙ্গে রক্ত বের হলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যাংককে যান। রবিবার দুপুরে হোটেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই তিনি মারা যান। Continue Reading →

যা করার আগেই করতে হবে
আজাদুর রহমান চন্দন
যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করা যাবে কি না, সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিতে চান সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। বর্তমান আইনে দল হিসেবে জামায়াতের বিচার করা সম্ভব নয় বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক যে মন্তব্য করেছেন সে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের মত জানান শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, “যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, আইনজীবী হিসাবে আমার মন্তব্য হল, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র ট্রাইব্যুনালেরই আছে যে, আইন অনুসারে বিচার করা যাবে কি না। যখন বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের সামনে আসবে। তখনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময়।”
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের মতো একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে এতটা অপরিপক্ক বক্তব্য আশা করা যায় না। ট্রাইব্যুনাল একবার বিষয়টি খারিজ করে দিলে পরে আর আইন সংশোধন করেও পার পাওয়া যাবে না। তাই যা করার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের আগেই করতে হবে।

Continue Reading →

মণি সিংহ : ইতিহাসের যুবরাজ

আজাদুর রহমান চন্দন

কমরেড মণি সিংহ একটি আদর্শের প্রতীক, একটি সংগ্রামের প্রতীক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবাদতুল্য পুরুষ তিনি। ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ উপমহাদেশের শোষণমুক্তি ও জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের প্রথম বার্তাবহদের একজন। বিদেশি শাসনের শৃঙ্খল থেকে উপমহাদেশকে মুক্ত করার সংগ্রামে অসহযোগ খেলাফত আন্দোলনের আমলে যে বিপ্লবী তরুণরা সর্বস্ব ছেড়ে সামনের সারিতে এসে যোগ দিয়েছিলেন, মণি সিংহ তাঁদের অন্যতম। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পরাধীনতা থেকে উপমহাদেশকে স্বাধীন করার লড়াই এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের মহানায়ক তিনি। দীর্ঘ সাত দশক ধরে জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামের পাশাপাশি এ দেশের শোষিত-নিপীড়িত-মেহনতি মানুষের চূড়ান্ত মুক্তির জন্য কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার েেত্র যে অবদান তিনি রেখে গেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতা সংগ্রামে মেহনতি জনতার ভূমিকা যাঁদের উদ্যোগে প্রবল ও প্রধান হয়ে ওঠে, মণি সিংহ তাঁদের অন্যতম। স্বাধীনতা সংগ্রামের কর্মকাণ্ডে সর্বহারা, কৃষক, মজুর ও বিত্তহীন বুদ্ধিজীবীদের আশা-আকাক্সাকে পুরোভাগে আনার চেষ্টা করেন তিনি। Continue Reading →